
রাজশাহী বিভাগের আম বাণিজ্যকে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও কৃষকবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আম ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৪০ কেজিকে এক মণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আম বিক্রয়ের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ কমিশন আদায় করা যাবে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আম বিপণন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ক এক সমন্বয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ। এসময় বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়েজুল কবির, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গী, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান, ফল গবেষণা কেন্দ্র রাজশাহীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের এজিএম মাহমুদুল আলম স্বজল, আম চাষী আহসান হাবীবসহ অন্যরা। সভায় উপস্থিত ছিলেন, আম ব্যবসায়ী, আড়তদার, হাট-বাজারের ইজারাদার, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা অংশ নেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, রাজশাহী বিভাগের অর্থনীতি ও কৃষির সঙ্গে আম শিল্প ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কৃষক যেন তার উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পান এবং ব্যবসায়ীরাও যেন সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার ও প্রশাসন কাজ করছে। আম বাণিজ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত কিছু অসঙ্গতি দূর করে একটি অভিন্ন ও গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক পক্ষকে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা-সবার স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও তদারকি অব্যাহত রাখবে। বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে আম খাত আরও শক্তিশালী হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও আমাদের অবস্থান সুদৃঢ় হবে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আম ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ৪০ কেজিকে এক মণ হিসেবে অভিন্নভাবে অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে কমিশন আদায়ের ক্ষেত্রে প্রতি কেজিতে সর্বোচ্চ ৩ শতাংশের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে ওজন ও কমিশন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিভ্রান্তি ও অভিযোগ দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া আমের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং আম বাণিজ্যে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে করণীয় বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশীজনরা আম সংগ্রহ, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার আম বাজারে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। এর ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন, ব্যবসায়ীরা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে বাণিজ্য পরিচালনা করতে পারবেন এবং ভোক্তারাও উপকৃত হবেন।
রাজশাহী বিভাগের আম শিল্প দেশের কৃষি অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। এ খাতকে আরও গতিশীল ও প্রতিযোগিতামূলক করতে প্রশাসন, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আম বাণিজ্যে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।